আস-সালামু আলাইকুম। SQSF-কাউন্সেলিং সেন্টার এন্ড স্মার্ট লাইব্রেরী (আত্নশুদ্ধির সফটওয়্যার)।
শিক্ষার কারিকুলাম কি ও কেন? এর রুপরেখা কেমন হতে হবে? মানুষের জীবনে যা যা কাজে লাগে তাই শিক্ষার কারিকুলাম হওয়া উচিৎ এর রুপরেখা কেমন হতে হবে? শিক্ষার জীবন শেষ হওয়ার পরবর্তী জীবনে যদি জীবন ঘনিষ্ঠ প্রয়োজনীয় বিষয় নতুন করে শিখতে হয়, তবে ২০ -২৫ বছর পড়াশোনা শেষ করার পর আবার যদি প্রশিক্ষণ নিতে হয় তবে তা অতি কষ্টকর নয় কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
নিচে আপনার চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার কারিকুলাম বিষয়ক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হলো, কুরআন ও হাদীসের আলোকে সাজিয়ে:
শিক্ষার কারিকুলাম: কী ও কেন?
কারিকুলাম বলতে বোঝায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত পাঠ্যসূচি, যার মাধ্যমে ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা ও আচরণ গঠিত হয়। এটি শুধু পরীক্ষা বা ডিগ্রির জন্য নয়, বরং জীবন গঠনের জন্য।
কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা:
- মানুষের বাস্তব জীবনের প্রয়োজন মেটানো
- ব্যক্তিত্ব, আখলাক ও চিন্তা-চেতনায় পরিপক্বতা আনা
- কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের জন্য প্রস্তুত করা
- আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতা গড়ে তোলা
কারিকুলামের রুপরেখা কেমন হওয়া উচিত?
১. আকীদা ও ইমান:
- আল্লাহ, রাসূল, আখিরাত সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস
- নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা (সুরা হুজুরাত, সুরা লুকমান)
২. দ্বীন ও ইবাদত বিষয়ক জ্ঞান:
- ফরয ইলম শিখা (নামাজ, রোজা, যাকাত, হালাল-হারাম)
- হাদীস: "প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।" (ইবনে মাজাহ)
৩. চরিত্র ও নৈতিক শিক্ষা:
- সত্যবাদিতা, ধৈর্য, ইখলাস, সৌজন্য
- রাসূল (ﷺ): "আমি চরিত্র পরিপূর্ণ করতে প্রেরিত হয়েছি।" (আহমদ)
৪. পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা:
- ঘর পরিচালনা, বিবাহ, সন্তান লালন, সামাজিক দায়িত্ব
৫. কর্মমুখী শিক্ষা:
- জীবনের উপার্জনের হালাল পদ্ধতি শেখা
- রাসূল (ﷺ) নিজে ব্যবসা করতেন, সাহাবারা কৃষি, নির্মাণ, হস্তশিল্পে দক্ষ ছিলেন
৬. শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্য:
- পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের নিয়ম, মানসিক সুস্থতা
৭. প্রযুক্তি ও সময়ানুগ দক্ষতা:
- প্রযুক্তি ব্যবহারে হালাল-হারামের জ্ঞান, ডিজিটাল নিরাপত্তা
বর্তমান শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের বিচ্ছেদ
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ২০–২৫ বছর সময় দিয়ে এমন অনেক বিষয় শিখে, যা বাস্তব জীবনে প্রযোজ্য নয়। অথচ:
- সংসার শুরু করার পর বিবাহ, সন্তান পালন, মানসিক সমস্যা, আর্থিক ব্যবস্থা—এসব বিষয়ে নতুন করে প্রশিক্ষণ নিতে হয়।
- এতে সময় ও জীবনের অপচয় হয় এবং অনেকেই বিপদে পড়ে।
অবশ্যই শিক্ষার কারিকুলাম এমন হওয়া উচিত যা “জীবনঘনিষ্ঠ ও আখিরাতমুখী”।
ইসলামের আলোকে কারিকুলামের মূল উদ্দেশ্য:
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন
২. সমাজে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা
৩. নিজের জীবনে ভারসাম্য আনা (দুনিয়া ও আখিরাত)
কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি:
"যারা জ্ঞানবান, তারা জানে—এই জীবন সাময়িক, আর আসল জীবন আখিরাত" (সূরা আনকাবুত: ৬৪)
উপসংহার:
একটি আদর্শ কারিকুলাম এমন হবে:
- যা শিশুর ঈমান গড়বে
- কিশোরকে স্বপ্ন দেখাবে
- তরুণকে দায়িত্ববান করবে
- বড়দের কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে
- এবং সব বয়সের মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করবে
SQSF বা অন্যান্য দীনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব হলো এই ঘাটতিগুলো পূরণ করা — যেন শিক্ষা হয় জীবনঘনিষ্ঠ, দ্বীনি ও দুনিয়াবি সফলতার পথপ্রদর্শক।
Notice Board
Follow us @Facebook
Downloads
Useful Links
Visitor Info