আস-সালামু আলাইকুম। SQSF-কাউন্সেলিং সেন্টার এন্ড স্মার্ট লাইব্রেরী (আত্নশুদ্ধির সফটওয়্যার)।
(1).png)
আজকের সমাজে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সন্তানদের আচরণগত সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা ও বদ অভ্যাস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত।
তবে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—
“সমস্যা যেহেতু সন্তানের, তাই কাউন্সেলিংও শুধু সন্তানকেই করাতে হবে। আমাকে কেন?”
এই ধারণাটিই অনেক সময় সমস্যার মূল সমস্যায় পরিণত হয়।
বাস্তবতা হলো—
সন্তান একা কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়; সে গড়ে ওঠে পরিবার, অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিবেশের সম্মিলিত প্রভাবের মাধ্যমে।
তাই সন্তানকে গড়তে হলে আগে অভিভাবক ও শিক্ষককে গড়ে তুলতে হয়।
(1).png)
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।”
(সূরা তাহরীম: ৬)
এই আয়াতে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—
“পরিবারকে রক্ষা করো” বলার আগে “নিজেদেরকে” সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, অভিভাবকের আত্মশুদ্ধি ও সচেতনতা ছাড়া সন্তানের সংশোধন অসম্পূর্ণ।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভেতরের অবস্থা পরিবর্তন করে।”
(সূরা রা’দ: ১১)
➡️ এখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়,
সন্তানের আচরণ বদলাতে চাইলে আগে অভিভাবকের চিন্তা, আচরণ, যোগাযোগ পদ্ধতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন জরুরি।
.png)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
(সহিহ বুখারী ও মুসলিম)
এই হাদীস অনুযায়ী—
বাবা-মা শুধু অর্থনৈতিক জোগানদাতা নন
বরং সন্তানের মানসিক, নৈতিক ও আচরণগত গঠনের প্রধান দায়িত্বশীল
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস—
“কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম আদব ও চরিত্রের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উপহার দিতে পারে না।”
(তিরমিযী)
➡️ প্রশ্ন হলো,
যে অভিভাবক নিজেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ দক্ষতা, ধৈর্য ও ইতিবাচক আচরণে দুর্বল—
তিনি কীভাবে সন্তানকে আদব ও চরিত্র শেখাবেন?
(1).png)
সন্তানের অধিকাংশ মানসিক সমস্যা ও বদ অভ্যাসের পেছনে থাকে—
অতিরিক্ত শাসন বা অবহেলা
তুলনা, অপমান ও ভয় দেখানো
অভিভাবকের নিজস্ব রাগ, হতাশা ও দাম্পত্য দ্বন্দ্ব
কথা বলার সুযোগ না দেওয়া
“আমি ঠিক, তুমি ভুল”—এই মনোভাব
অথচ অভিভাবক বলেন—
“আমার কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা শুধু বাচ্চার।”
এটাই সবচেয়ে বড় কাউন্সেলিং রেজিস্ট্যান্স (Resistance)।
.png)
সন্তানকে একা কাউন্সেলিং করালে যা হয়—
সে কিছুটা বুঝতে শেখে
কিন্তু বাসায় ফিরে আবার একই পরিবেশে পড়ে
একই কথা, একই চাপ, একই আচরণ
ফলে অগ্রগতি থেমে যায় বা নষ্ট হয়
📌 একে বলা হয় Relapse Cycle
যেখানে পরিবেশ না বদলালে পরিবর্তন টিকে না।

একজন প্রফেশনাল কাউন্সিলর তাই—
✔️ সন্তানের মানসিক অবস্থা বোঝেন
✔️ অভিভাবকের চিন্তা, ট্রমা ও প্যারেন্টিং স্টাইল বিশ্লেষণ করেন
✔️ শিক্ষক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করেন
✔️ ধাপে ধাপে কাউন্সেলিং ও প্যারেন্টিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন
কারণ—
একটি পরিবারের সমস্যা এক সেশনে ঠিক হয় না।
একটি ভুল প্রত্যাশা হলো—
“২–৩টা সেশন করালেই সব ঠিক হয়ে যাবে”
বাস্তবতা হলো—
মানুষের মন ও আচরণ দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল
তাই পরিবর্তনও আসে—
ধীরে
পর্যায়ক্রমে
ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও ফলোআপের মাধ্যমে
যেমন—
নামাজ শিখতেও সময় লাগে
চরিত্র গড়তেও সময় লাগে
তেমনি সুস্থ প্যারেন্টিংও একটি শেখার প্রক্রিয়া
সন্তান সমস্যা মানেই শুধু সন্তানের সমস্যা নয়—
এটি একটি পারিবারিক সিস্টেমের সমস্যা।
কুরআন আমাদের আত্মসংশোধনের শিক্ষা দেয়
হাদীস আমাদের দায়িত্বশীল প্যারেন্ট হওয়ার নির্দেশ দেয়
আর বাস্তবতা আমাদের শেখায়—
অভিভাবককে বাদ দিয়ে কোনো সন্তানকে গড়া যায় না।
তাই ইনশাআল্লাহ—
যখন অভিভাবক ও শিক্ষক কাউন্সেলিং ও প্যারেন্টিং গ্রহণ করবেন
নিজের ভেতরের পরিবর্তনে রাজি হবেন
ধৈর্য ধরে ধারাবাহিক প্রোগ্রামে যুক্ত থাকবেন
তখনই ধীরে ধীরে—
✔️ সন্তানের আচরণ বদলাবে
✔️ পরিবারে শান্তি ফিরবে
✔️ এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠবে
ইনশাআল্লাহ।
Notice Board
Follow us @Facebook
Downloads
Useful Links
Visitor Info