বিশ্বকাপের মরণ ফাঁদ World Cup death trap আস-সালামু আলাইকুম। SQSF-কাউন্সেলিং সেন্টার এন্ড স্মার্ট লাইব্রেরী (আত্নশুদ্ধির সফটওয়্যার)।
বিশ্বকাপের ফাঁদ

বই: বিশ্বকাপ ফুটবল ফাঁদ

লেখক: জাহিদ হাসান

রাত তখন বেশ গভীর। পুরো শহর নিঝুম হওয়ার কথা থাকলেও চারপাশ থেকে একটা অদ্ভুত উন্মাদনার কোলাহল ভেসে আসছে। টিভির পর্দা, সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড আর পাড়ার মোড়গুলো এখন সরগরম। কারণ কী? একটা গোল চামড়ার বলের পেছনে তেইশজন মানুষের ছুটে চলা।
কিন্তু এই উন্মাদনা যখন কেবল বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে আসন গেড়ে বসে, তখন বুকটা চড়ক দিয়ে ওঠে।
একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, একটা দলকে কেন্দ্র করে আমাদের চারপাশের চেনা পরিবেশটা কেমন যেন বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
প্রিয় দল আর প্রিয় খেলোয়াড়কে নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠছে, যা একপর্যায়ে রূপ নিচ্ছে গালাগালি আর নোংরা তর্কে। নিজের পছন্দের দলের জার্সি গায়ে না দিলে যেন খেলা দেখাই বৃথা! আর এই জার্সি কেনা এবং ভিনদেশি পতাকা টাঙানো নিয়ে চলছে এক তীব্র প্রতিযোগিতা।
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই দলবাজি আর পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী মারামারি পর্যন্ত হচ্ছে।
 
যে ভাই কাল পর্যন্ত একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সালাত আদায় করেছে, আজ তারা কেবল দুটি ভিন্ন দেশের পতাকার অহংকারে একে অপরের শত্রু বনে যাচ্ছে। আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা এই নোংরা পরিবেশ দেখেই বড় হচ্ছে। তারা ভাবছে, এটাই হয়তো বীরত্ব।
অথচ, একটু চোখ ফিরিয়ে কি আমরা মুসলিম উম্মাহর বর্তমান করুণ অবস্থার দিকে তাকিয়েছি?
যে সময়টাতে আমাদের Piলিস্তিN, মায়ানমার কিংবা উইঘুরের মুসলিম ভাই-বোনেরা একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে; যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুর ক্রন্দনে আকাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা মেতে আছি কোটি টাকার জুয়া আর ভিনদেশি পতাকার উৎসবে!
উম্মাহর শরীর যখন রক্তে রঞ্জিত, আমরা তখন আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল কিংবা ব্রাজিলের হলদে-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে আনন্দোল্লাসে মেতে উঠছি। এটা কি চরম এক আত্মবিস্মৃতি নয়?
শত্রুরা তো এটাই চেয়েছিল—তারা আমাদের এমন এক অবাস্তব গোলকধাঁধায় বন্দি করতে চেয়েছিল, যাতে আমরা নিজেদের আসল পরিচয় আর দায়িত্বটাই ভুলে যাই।
এই তীব্র বেদনা আর প্রশ্নটাই আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের আগামী প্রজন্মের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বারংবারের মত এবারও আমি কলম ধরতে বাধ্য হয়েছি।
আমি আমাদের শিশুদের ওপর জোর করে কোনো ফতোয়া চাপিয়ে দিতে চাইনি। আমি শুধু তাদের কচি হৃদয়ে একটা গল্প গেঁথে দিতে চেয়েছি। এমন গল্প, যা পড়তে পড়তে তারা নিজেরাই বুঝতে পারবে—কেন একজন মুসলিম শিশুর হাত এই ভিনদেশি জার্সি আর পতাকা মানায় না। তারা বুঝতে পারবে, আমাদের আসল গন্তব্য এই মাটির মাঠের ক্ষণস্থায়ী ট্রফি নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি আর চিরস্থায়ী জান্নাত।
 
আসুন, এই উন্মাদনার স্রোতে আমাদের সন্তানদের ভাসিয়ে না দিয়ে তাদের ঈমানি চেতনাকে জাগ্রত করি। তাদের হাতে তুলে দেই এমন কিছু, যা তাদের সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবে।
আপনার সন্তানের সাথে বসে গল্পটি পড়বেন, তাদের সাথে নিয়ে ভাববেন। উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে ঈমানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়েও বড় দাবি।
🌺 সন্তানদের অসুস্থতার জন্যে গল্পটি শেষ করতে কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। সবার জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে ইন শা আল্লাহ। দয়া করে কেউ বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে প্রিন্ট করবেন না।
🌿 পোস্টটি শেয়ার করুন । আর আপনার সন্তান উপকৃত হয়েছে কিনা জানাবেন।

Follow us @Facebook
Visitor Info
100
as on 13 Jun, 2026 12:50 AM
©EduTech-SoftwarePlanet